কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৬:০২ PM

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম (চা-শ্রমিক, বেদে, অনগ্রসর ও হিজড়া জনগোষ্ঠী)

কন্টেন্ট: পাতা

পটভূমি:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে বিভিন্ন আয়ত্তাতীত কারণে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সংবিধানের এ অনুচ্ছেদে “সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার” এর উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের এ অঙ্গীকারের আলোকে সরকার পৃথিবীর অন্যান্য কল্যাণ রাষ্ট্রের ন্যায় সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে দেশের দুঃস্থ, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত, এতিম, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যাপক ও বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যার সিংহভাগ সমাজসেবা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য সামাজিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহ[1]-কে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা।

জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল-২০১৫ (National Social Security Strategy-NSSS) অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অধীনে প্রদত্ত সুবিধার সুষম বণ্টন, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ এবং ইলেকট্রনিক উপায়ে সরাসরি উপকারভোগীদের মোবাইল হিসাব/ব্যাংক হিসাব নম্বরে Government to Person (G2P) Payment পদ্ধতিতে আর্থিক সুবিধা প্রদানের নিমিত্ত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়নকল্পে ইত:পূর্বে প্রণীত চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩ এবং দলিত, হরিজন ও বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩ একত্রিত করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

২। কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ:

১. আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন;

২. দারিদ্র বিমোচনে সহায়তা;

৩. আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে মনোবল জোরদারকরণ;

৪. সেবাসমূহে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণ;

৫. ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে মূল স্রোতধারায় আনয়ন;

৬. পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধি।

৩। কার্যক্রমসমূহ:

(ক) বিশেষ ভাতা প্রদান: ভাতার হার ৬৫০ টাকা;

(খ) শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান; স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মাসিক হারে প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা,

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১০০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১২০০ টাকা প্রদান;

(গ) প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণোত্তর অনুদান/আর্থিক সহায়তা/উপকরণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রদান। মাথাপিছু ৫০,০০০ টাকা করে প্রশিক্ষণোত্তর আর্থিক সহায়তা প্রদান।


১. নীতিমালা অনুযায়ী “অনগ্রসর জনগোষ্ঠী” অর্থ চা-শ্রমিক, হিজড়া, বেদে এবং সমাজের বিভিন্ন অনগ্রসর সম্প্রদায় যেমন- জেলে, নিকারী, কৈরী, গড়, সন্যাসী, পাটনী, কুশিয়ারি, ঋষি, কায়পুত্র/কাওরা, কাহার, তাঁতী, বেহারা, পাটিকর, চৌদালী, নরসুন্দর/নাপিত, ডোমার, চুনারু/চুনকর, গোয়ালা, ডোম, কুমার, তেলুগু, হাজাম, রাউত, কুশিয়ারি, দেববর্মা, অহমিয়া, কাহার, জলদাস, মালাকার, কানপুরী, কামার, নমঃশুদ্র, অলমিক, কৈবর্ত, পরবাসী, কাপালিক, নায়েক, পৌন্ড্রক্ষত্রিয়/পোদ, রাজভর, বাউরি, বাওয়ালী, বীন, বুনো, বুনাজ, বাঁশফোর, বিন্দু, ভগবানীয়া/কর্তাভজা,ভুনজার, মাসুয়ারা, মান্তা, মৌয়াল, যুগী/নাথ, রজকদাস/ধোপা, রাজবংশী, রানাকর্মকার, রবিদাস, লিঙ্গম, শব্দকর, সিং, হাজরা, হাঁড়ি, হেলা, বাল্মিকী, লালবেগী, ছাপরাইতা, মাঘাইয়া, আগারিয়া, বেলদার, কাদার, জালো, বাহেলিয়া, কারেঙ্গা, রাভা, বাদোয়ার, মাল, মাহার, মেচ, বাইতি, শুঁড়ি, দোষাদ, সুতার, মালী, কোটাল, তিওর, নাট, বাদ্যকর, কলু, নাকাসী, ধুনকর, মশালচী, চর্মকার, ভৌমিক, ভগত. মাটিয়াল, গাছি ইত্যাদি অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে বাস্তবতার নিরীখে কোন সম্প্রদায়কে অনগ্রসর ঘোষণা করা হলে তাও এ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হবে;

৪। বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ:

(ক) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরাধীন বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়সমূহের সাংগঠনিক কাঠামোতে বিদ্যমান জনবল, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং ওয়ার্ড/ইউনিয়ন/তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন এলাকার সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে;

(খ) কার্যক্রম সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ থাকবে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি, মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে সমন্বয় ও মনিটরিং কমিটি এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা কমিটি কর্মপরিধি অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

৫। কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫

৬। কার্যক্রম বাস্তবায়ন কৌশল :

(ক) সমাজসেবা অধিদপ্তরের Management Information System (MIS) অথবা এ সংক্রান্ত সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বা সরাসরি আবেদন গ্রহণপূ্র্বক জাতীয় তথ্যভাণ্ডার কিংবা সংশ্লিষ্ট উৎস হতে ব্যক্তির দরিদ্রতা সংক্রান্ত PMT স্কোর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) যাচাই করে এ নীতিমালা অনুসরণপূর্বক যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন করে বরাদ্দ অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে G2P পদ্ধতিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান।

তবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা রাষ্ট্রীয় বিশেষ প্রয়োজনে সরকার উপকারভোগী নির্বাচন ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করতে পারবে।

(খ) সমাজসেবা অধিদপ্তরের MIS অথবা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’র জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিস্পত্তিকরণ।

৭। প্রশিক্ষণ:

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে (যেমন : চা-শ্রমিক, হিজড়া, বেদে এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়) শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল, ২০১৫ (National Social Security Strategy - NSSS) অনুযায়ী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সমন্বিত নীতিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতিমালার আলোকে সমাজসেবা অধিদপ্তর অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতা, উপবৃত্তিসহ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যর্জনে সমাজসেবা অধিদপ্তর অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

৮। প্রশিক্ষণ মডিউল:

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সমন্বিত নীতিমালা, ২০২৫-এর আলোকে লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে স্থানীয়পর্যায়ে প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়ন করতে হবে। প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়নে কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় ধাপ অনুসরণ করতে হবে, যেমন-

প্রশিক্ষণ চাহিদা যাচাইয়ের লক্ষ্যে জনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে Focus Group Discussion (FGD) অয়োজন করতে হবে। এফজিডিতে স্থানীয় সকল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে;

চাযাইকৃত প্রশিক্ষণ চাহিদারভিত্তিতে সকল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর নিকট গ্রহণযোগ্য ট্রেডের সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করতে হবে;

নির্ধারণ ট্রেডের আলোকে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়ন ও চূড়ান্ত করতে হবে।

৯। প্রশিক্ষণ ট্রেডসমূহ :

হেয়ার কাটিং, বিউটিফিকেশন, বেসিক ড্রাইভিং, অটোমোবাইল ও কার সার্ভিসিং, মোবাইল সার্ভিসিং, টিভি, ফ্রিজ, এসি ইত্যাদি রিপেয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ারিং এন্ড রিপেয়ারিং, সিকিউরিটি গার্ড, কৃষি (হর্টিকালচার, পশুপালন, পোল্ট্রি, মৎস্য, মৌমাছি চাষ, মাশরুম ইত্যাদি), খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বেসিক কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং, কেয়ার গিভিং, কুটিরশিল্প (ব্লক-বাটিক, হস্তশিল্প, কারচুপি, হ্যান্ডপেইন্টিং, গ্লাস পেইন্টিং, বাঁশবেত), অথবা স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে।

১০। প্রশিক্ষণোত্তর পুনর্বাসন :

সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী প্রশিক্ষণার্থীকে সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এককালীন ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অথবা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান প্রদান, ঋণ সুপারিশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা প্রদান করা হবে।

১১। এক নজরে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিসংখ্যান (২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২০২৭)

ক্রমকার্যক্রমেরনামখাতের নামবরাদ্দ কোটি টাকায়উপকারভোগী (সংখ্যা)মন্তব্য/হার
মাসিক (জনপ্রতি)
ক্যাশ আউট চার্জ
২০২৫-২০২৬২০২৬-২০২৭২০২৫-২০২৬২০২৬-২০২৭
১অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমকল্যাণ অনুদান173.90179.21২,২১৩৮৯২২,২৮,৩৯০৬৫০0.60
বৃত্তি/মেধাবৃত্তি38.1744.4342,140৪৫,৩৩৮৭০০,৮০০, ১০০০ ও ১২০০0.60
প্রশিক্ষণ মঞ্জুরি10.9810.985,49০5,49০50000.০০
এককালীন
--

ফাইল ১

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ১

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন