সমাজসেবা অধিদফতর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ মে ২০১৫

স্কার

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ একটি আন্তর্জাতিক সার্বজনীন মানবাধিকার দলিল। শিশুদের কল্যাণে যথাসম্ভব উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশ সরকার দেশের জনগণ এবং জাতিসংঘের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর শিশু উন্নয়ন ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। তারই ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদফতর ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত কল্পে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য সার্ভিসেস ফর চিলড্রেন এট রিস্ক (স্কার) প্রকল্পটি গ্রহণ করে। বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় সার্ভিসেস ফর চিলড্রেন এট রিস্ক (স্কার) প্রকল্পটি ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে গ্রহণ করা হলেও প্রকল্পের বাস্তব কার্যক্রম ২০১২ সাল থেকে শুরু হয়। দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে স্থাপিত ৭টি ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড প্রটেকশন সার্ভিস (আইসিপিএস) সেন্টারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আগষ্ট ২০১৪ সালের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার ২য় সংশোধন অনুমোদনকালে প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড প্রটেকশন সার্ভিস (আইসিপিএস) সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ রাসেল ঝুঁকিপূর্ণ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ [Sheikh Russell Training and Rehabilitation Centre for the Children at Risk (SRTRCCR)] নামকরণ করা হয়।

 

প্রকল্পের অর্থায়ন ও অগ্রগতি

প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় (আইডিএ ক্রেডিট) বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৭৫৫৫.০০ লক্ষ টাকা। প্রকল্প সাহায্য ৭৪৫৫.০০ লক্ষ টাকা এবং জিওবি ১০০.০০ লক্ষ টাকা। মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১৮৫৮.৩৬ লক্ষ টাকা (প্রকল্প সাহায্য ১৮০৮.৩৩ লক্ষ টাকা এবং জিওবি ৫০.০৩ লক্ষ টাকা)।

অর্থ বছর

মোট ব্যয়

জিওবি

আরপিএ

২০১৩-২০১৪ পর্যন্ত

১২৭০.১১

৪১.৩৭

১২২৮.৭৪

২০১৪-২০১৫ (মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত)

৫৮৮.২৫

৮.৬৬

৫৭৯.৫৯

ক্রমপুঞ্জিভুত ব্যয় (মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত)

১৮৫৮.৩৬

৫০.০৩

১৮০৮.৩৩

 

প্রকল্পের কম্পোনেন্ট

এ প্রকল্পের ২ টি কম্পোনেন্ট  রয়েছে। কম্পোনেন্ট-১ এর আওতায় ৭ টি বিভাগ (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর) এর  আওতায় জেলাসমূহের ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের নিজ বিভাগীয় শহরে অবস্থিত শেখ রাসেল ঝুঁকিপূর্ণ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (এসআরটিআরসিসিআর) হতে সুরক্ষা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সম্প্রতি অনুমোদিত প্রকল্প প্রস্তাবনার  ২য় সংশোধনীতে দেশের ৪টি জেলায় (কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, কক্সবাজার ও বরগুনা) ৪টি নতুন শেখ রাসেল ঝুঁকিপূর্ণ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের সংস্থান রয়েছে। বর্তমানে নতুন সেণ্টারসমূহ স্থাপনের কার্যক্রম চলমান।

 

কম্পোনেন্ট-১ এর লক্ষ্য

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে শিশু সুরক্ষাকল্পে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠিত করা এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরীর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করে কেইস বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা, আবাসন, কাউন্সেলিং এবং পুনঃএকীকরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

 

লক্ষ্যভুক্ত শিশু

যে সকল শিশুরা নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ এবং সহিংসতার শিকার হয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সে সকল শিশু ‘এসআরটিআরসিসিআর’ এর লক্ষ্যভুক্ত শিশু। এরা হলো:

  • পথ শিশু;
  • কর্মজীবি শিশু/শিশু শ্রমিক;
  • পিতৃমাতৃহীন/ অভিভাবকহীন শিশু;
  • আশ্রিত শিশু (যারা অন্য কোন পরিবারে/প্রতিষ্ঠানে আশ্রিত অথবা সার্বক্ষণিক গৃহকর্মী হিসাবে নিয়োজিত);
  • পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু;
  • শোষন ও  নির্যাতনের শিকার শিশু;
  • বাল্য বিবাহের শিকার;
  • পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন /হারিয়ে যাওয়া শিশু;
  • আইনের সংস্পর্শে আসা  শিশু ও
  • অন্যান্য শিশু (দূর্যোগের শিকার,বৈষম্যের  শিকার ইত্যাদি) যারা ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

প্রতিটি সেণ্টারে ছেলেদের জন্য ০১ টি ও মেয়েদের জন্য ০১ টি করে মোট ১৪ টি ড্রপ-ইন সেণ্টার আছে। প্রতিটি ড্রপ-ইন সেণ্টারে ১০০ জন ছেলে শিশু ও ১০০ জন মেয়ে শিশুর জন্য সার্বক্ষনিক থাকা, খাদ্য, চিকিৎসা, মনো-সামাজিক সহায়তা, পোষাক ও শিক্ষা প্রদানপূর্বক তাদের ঝুঁকি কমিয়ে সমাজের মূল ধারার সাথে পুনঃএকীকরণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত মোট ৩৫৫৩ জন শিশুকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৭৯২ জন বালক শিশু ও ১৭৬১ জন বালিকা শিশু। মোট ২৩৯৪ জনকে তাদের পরিবারে পুনঃএকীকরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২৮১ জন বালক শিশু ও ১১১৩ জন বালিকা শিশু।

 

লক্ষ লক্ষ্যভুক্ত শিশু  শেখ রাসেল ঝুঁকিপূর্ণ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে কেন্দ্রের সেবাসমূহ:

 

আশ্রয়

নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ঝুঁকি কমিয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ (ছয়) মাসের জন্য (প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আরো বেশি সময়) তাদেরকে আশ্রায়ণ সেবা প্রদান করা হয়।

 

ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী সেবার আওতায় আসা শিশুর সংখ্যা

 

ঝুঁকির ধরন

আগস্ট ২০১২ থেকে র্মাচ ২০১৫ পর্যন্ত সেবা প্রদানকৃত শিশুর সংখ্যা

 

ছেলে

মেয়ে

মোট

নির্যাতিত শিশু

৫৬

৮৩

১৩৯

পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু

বাল্য বিবাহের শিকার শিশু

গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু

২০

১৯৮

২১৮

দূর্ঘটনার শিকার/আহত শিশু

৩১

১৪

৪৫

আইনের সংর্স্পশে আসা  শিশু 

২৪

২৯

৫৩

অবহেলার শিকার শিশু  

১৭৪

২১৭

৩৯১

পিতৃ-মাতৃহীন এতিম শিশু

৯২

৫৬

১৪৮

পিতা কিংবা মাতাহীন এতিম শিশু

২৬৮

৩৩৮

৬০৬

কোন সেবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রেফারকৃত শিশু

৩৪

৩৩

৬৭

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশু/হারানো শিশু

৭৫

১১৩

১৮৮

প্রতিবন্ধী শিশু

১৮

১২

৩০

শিশু শ্রমিক

২৪৯

১৫৯

৪০৮

পথ শিশু

৩৫৬

১৬৫

৫২১

অন্যান্য

৩৯৪

৩৩৬

৭৩০

মোট

১৭৯২

১৭৬১

৩৫৫৩

আঞ্চলিক খাদ্যাভ্যাসকে প্রাধান্য দিয়ে সেণ্টারসমূহ শিশুদের চারবেলা সুষম খাবার পরিবেশন করে থাকে। জাতীয় দিবস, প্রধান ধর্মীয় উৎসবসহ বিভিন্ন দিবসে বিশেষ খাদ্য পরিবেশন করা হয়।

 

পোষাক পরিচ্ছদ/বিছানাপত্র

এসআরটিআরসিসিআরসমূহে অবস্থানরত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংস্কৃতি, আবহাওয়া ও ঋতুভিত্তিক ২ সেট পোষাক সরবরাহ করা হয়। স্কুলগামী শিশুদের স্কুলের নিয়মানুসারে ১ সেট পোষাক সরবরাহ করা হয়। রাত্রীযাপনের জন্য প্রতিটি শিশুকে একপ্রস্থ বিছানা সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে তোষক, কভারসহ বালিশ, বিছানার চাদর, মশারি ও কম্বল।

স্বাস্থ্য সেবা

সেণ্টারে শিশু ভর্তির সময়ে শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য তথ্যাদি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়।  সকল ঝুকিপূর্ণ শিশুর নিয়মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হয়। জটিল ব্যাধির ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল এবং সমাজসেবা অধিদফতরাধীন অন্যান্য সেবা কেন্দ্রে রেফার করা হয়।

 

মনো-সামাজিক সহায়তা

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে শিশুদের নিয়মিত মনো-সামাজিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তাদের খেলাধূলা, চিত্রাংকন এবং বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকান্ডের সাথে শিশুদের সম্পৃক্ত রাখা হয়।

সেন্টারে অবস্থানরত শিশুদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান করা হয়। কেন্দ্রে আগত আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ১৪ বছর বয়স উর্ধ শিশুদের স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

 

সামাজিক পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ঝুঁকি কমিয়ে তাদেরকে সমাজের মূল ধারার সাথে পুনঃএকীকরণের লক্ষ্যে সেণ্টারসমূহ কাজ করে আসছে। এ লক্ষ্যে শিশুর মতামত বিবেচনা করে তার মৌলিক চাহিদা, ভালবাসা ও  আদর-যত্নপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ, শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপদযুক্ত কোন কাজে না দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদানপূর্বক পরিবারে, সমাজে বা কোন প্রতিষ্ঠানে পুনঃএকীকরণ ও পুর্নবাসন করা হয়। একবার বিপদমুক্ত হলে পরবর্তী সময়ে শিশু যেন পুনরায় ঝুঁকিতে না পড়ে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা  দেয়ার জন্য  ফলো-আপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নতুন কোন ঝুঁকি দেখা দিলে ইন্টারভেনশন প্লান তৈরি করে শিশুকে পুনরায় সেণ্টারে আনা হয়। মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত ২৩৯৪ জন শিশুকে তাদের পরিবারে পুনঃএকীকরণ করা হয়েছে।

 

ঝুঁকির ধরণ অনুযায়ী পুনঃএকীকরণকৃত শিশুর সংখ্যা

ঝুঁকির ধরন

পুনঃএকীকরণকৃত শিশুর সংখ্যা

 

 ছেলে

 মেয়ে

মোট

নির্যাতিত শিশু

৪২

৬৪

১০৬

পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু

বাল্য বিবাহের শিকার শিশু

গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু

১২৯

১৩৮

দূর্ঘটনার শিকার/আহত শিশু

২২

১৪

৩৬

আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু 

১৭

২৩

৪০

অবহেলার শিকার শিশু  

১৪১

১৫১

২৯২

পিতৃ-মাতৃহীন এতিম শিশু

৫৫

১৩

৬৮

পিতা কিংবা মাতাহীন এতিম শিশু

১৬৫

২২৩

৩৮৮

কোন সেবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রেফারকৃত শিশু

১৩

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশু/হারানো শিশু

৬১

৫৯

১২০

প্রতিবন্ধী শিশু

১১

১৮

শিশু শ্রমিক

১৯৫

১১২

৩০৭

পথ শিশু

২৪৬

১১৮

৩৬৪

অন্যান্য

৩১০

১৮৮

৪৯৮

মোট

১২৮১

১১১৩

২৩৯৪

 

সচেতনতা, বিনোদন ও অন্যান্য কার্যক্রম: 

সেণ্টারে অবস্থিত শিশুদের শিশু অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। যেমন বিনোদনের জন্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বিনোদন, সৃজনশীলতা ও জীবন-দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলোতে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

 

কম্পোনেন্ট-২ এর আওতায় স্কার প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদফতর এর মনিটরিং কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সরবরাহ এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধনসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 


Share with :